প্রসঙ্গ নোবেল পুরস্কার

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২০, ৬:২২ অপরাহ্ণ

জাগোভাটি ডেস্ক

আর মাত্র ক’দিন বাকি। ৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ছয়টি কার্যদিবসে ঘোষণা করা হবে ছয়জন নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম । ৯ অক্টোবর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। নোবেল পুরস্কারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে করোনা মহামারীর কারণে এ বছর স্টকহোমে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

বিজয়ীরা তাদের নিজ নিজ দেশ থেকে অনলাইনে অংশগ্রহণ করবেন। নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় ঘনিয়ে এলে বিশ্ব মিডিয়ায় বিভিন্ন মনগড়া সংবাদ দেখা যায়। যেমন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বিশ্বের বড় বড় দেশের পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন অমুক-তমুক। ৯ সেপ্টেম্বর এ ধরনের একটি সংবাদ বিশ্ব মিডিয়ায় বেশ আলোচিত হয়েছে।

সংবাদের শিরোনাম ছিল: ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২১ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত’। শিরোনামটি পড়লে যে কোনো পাঠকই ভাববেন নোবেল কমিটিই বোধহয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। অর্থাৎ তিনি মনোনীত হয়ে গেছেন, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

সংবাদটি দেখে বুঝে উঠতে পারছিলাম না আসলেই তিনি নোবেল পেতে যাচ্ছেন কি না। পরে কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঘেঁটে যা বুঝতে পারলাম তা হল- নরওয়ের একজন ডানপন্থী রাজনীতিক নোবেল কমিটি বরাবর মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে ইমেইলে মনোনয়ন প্রেরণ করেছেন। ওই মনোনয়নের আলোকেই মিডিয়ায় ওই সংবাদ ছাপা হয়েছে।

এ সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কৌতূহলবশত নোবেল কমিটির কাছে একটি মিডিয়া ইনকোয়ারি পাঠাই। ইমেইল পাঠানোর সময় কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম, নোবেল কমিটি কি আদৌ ইমেইলের উত্তর দেয়ার প্রয়োজন মনে করবে? কিন্তু আমার ধারণা অমূলক করে দিয়ে নোবেল কমিটি মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর পাঠাল।

নোবেল কমিটির তথ্য-সেক্রেটারি ক্রিস্টিন আসদাল লিখেছেন, নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন সংক্রান্ত কোনো তথ্য পরবর্তী ৫০ বছরের আগে প্রকাশ করা হয় না। ৫০ বছর পর কেউ আবেদন করলে শুধু গবেষণা কাজের জন্য তথ্য দেয়া হতে পারে। কোনো ব্যক্তিবিশেষের পক্ষে কেউ কোনো মনোনয়ন পাঠিয়েছেন কিনা সেই তথ্য নোবেল পুরস্কারের আইন অনুযায়ী কাউকে জানানো হয় না।

তারা আরও জানিয়েছেন, প্রতিবছর ৩১ জানুয়ারি রাত ১২টার আগে ওই বছরের নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাঠাতে হয়। প্রতিবছরই ৩শ’র বেশি মনোনয়ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ধাপে ধাপে দীর্ঘ ৮ মাস বিভিন্ন স্ক্রুটিনি ও ভোটাভুটি শেষে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সুতরাং মনোনয়ন জমা দেয়া মানেই নোবেল জয় করা নয়।

ইমেইল থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হল, নোবেল কমিটি যেখানে নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন সংক্রান্ত কোনো তথ্য পরবর্তী ৫০ বছর পর্যন্ত প্রকাশ করে না, তাই ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত হওয়ার তথ্য নোবেল কমিটি থেকে প্রেরিত নয়। হয়তোবা যিনি মনোনয়নটি পাঠিয়েছেন, তিনিই মিডিয়াকে জানিয়েছেন! অথবা যেহেতু নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, তাই ট্রাম্প কাউকে দিয়ে তার পক্ষে মনোনয়নটি পাঠিয়ে কিছু পাবলিসিটি নেয়ার চেষ্টা করেছেন।

যে বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়, তাতে সময় লাগে প্রায় ৮ মাস। কোনো ব্যক্তিবিশেষ নিজেই নিজের মনোনয়ন দাখিল করতে পারেন না। একটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ব্যক্তিবর্গ তাদের পছন্দের যে কোনো ব্যক্তির জন্য মনোনয়ন দাখিল করতে পারেন। প্রতি বছরের ৩১ জানুয়ারি রাত ১২টার মধ্যে ওই বছরের নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনয়ন জমা দিতে হয়।

অর্থাৎ এ প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন জমা দেয়া। তারপর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে মনোনীত ব্যক্তিদের প্রোফাইল পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে একটি শর্ট লিস্ট বা প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে নোবেল কমিটি। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এ তালিকাটি পর্যালোচনা করা হয়। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ওই বছরের বিজয়ীদের নির্বাচিত করে নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ ব্যাপারে আপিলের কোনো সুযোগ থাকে না।

তাইসির মাহমুদ : সম্পাদক, সাপ্তাহিক দেশ, লন্ডন

 

 

জাগোভাটি/প্র/সা/০১/১০/২০