নাটকীয়ভাবে চলছে শাল্লার জন্মনিবন্ধন ডিজিটাল করণের কাজ!

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

শাল্লা প্রতিনিধি:: ইউনিক আইডি প্রদানের লক্ষে সরকারি নির্দেশনায় বিদ্যালয় থেকে জানিয়ে দিয়েছেন ছাত্রছাত্রীদের জন্মনিবন্ধন ডিজিটাল করে বিদ্যালয়ে জমা দিতে হবে। যার জন্য ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে অনেক ভিড় দেখা যায় ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের। এতে অনেক হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা।গত ১০/১০/২১ ইং তারিখে সরেজমিনে ঘুরে এরকম অসংখ্য ভুক্তভোগীর দেখা পাওয়া যায় শাল্লা উপজেলার ২ নং হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে অদক্ষ সজীব নামের একটি ছেলে জন্মনিবন্ধন ডিজিটাল করণ ও হাল নাগাদের কাজ করছে।আপনি কিসের বিনিময়ে এখানে কাজ করেন কর্মরত ছেলেটিকে(সজীবকে)মুঠো ফোনে এমন প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেন আমি একটি কম্পিউটার কোর্স শেষ করেছিলাম কিন্তু আমার কোন সার্টিফিকেট নেই আমার হাতের কাজ সচল রাখতে বিনা বেতনে এখানে কাজ করছি।

হবিবপুর ইউনিয়নের স্হায়ী বাসিন্দা লক্ষণ চন্দ্র দাস বলেন, আমার স্ত্রীর নাম সীতল রাণী দাস কিন্তু জন্মনিবন্ধনে এসেছে রীতা রাণী দাস,শাসখাই গ্রামের আরেক বাসিন্দা জন্মনিবন্ধনে তার নাম প্রিয় লাল দাস(পুরুষ)অনলাইনে উল্লেখ করা ঐ ব্যক্তি নারী,আরেক ভুক্তভোগী মুন্না মিয়া জানান আমার মায়ের নাম সালেহা নুরুন্নাহার কিন্তু আমার বোনের জন্মনিবন্ধনে দিয়েছে সালেহা নূরহাহার এরকম অসংখ্য অভিযোগ  সংরক্ষিত আছে। ভুক্তভোগীরা বলেন অদক্ষ লোক ও অসতর্কার কারনে আমরা এরকম হয়রানির শিকার হচ্ছি।শুধু একটি নাম সংশোধন করার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউনিয়ন অফিসের সামনে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায় প্রায় অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীকে।ভুক্তভোগীরা আরো বলেন একটি নাম সংশোধন করতে গিয়ে হয়রানির সাথে আমরা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি নাম সংশোধন ও ছাত্রছাত্রীদের জন্মনিবন্ধন ডিজিটাল করতে গিয় ১৫০-২৫০ টাকা দিতে হচ্ছে অন্যদিকে যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচ ত আছেই কিন্তু আমাদের কাজ ঠিকমতো করা হচ্ছে না ধমকের ভয়ে চেয়ারম্যানের কাছেও কিছু বলতে পারি না। চেয়ারম্যানের কাছে ভালমন্দ কিছু বলার আগেই ধমক দিয়ে উঠে এমতাবস্থায় আমরা খুব সমস্যার মধ্যেই আছি।

শ্যাম সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমরেন্দ্র সরকার জানান আমাদের ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা জন্মনিবন্ধন ডিজিটাল ও সংশোধন করতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে এতে আমরা ও অতিষ্ট এর একটা সঠিক সমাধান দরকার। ইউনিয়নের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন পলি দাস নামের আরেকজন মহিলা তার সম্পর্কে ভুক্তভোগীরা জানান আমরা তার কাছে কোন কাজ নিয়ে গেলে সে আমাদের সাথে কঠোর ভাষায় খারাপ ব্যবহার করে আমাদের কাজে সে গুরুত্ব দেয় না যার জন্য আমরা এরকম হয়রানির শিকার হচ্ছি।পলি দাসকে একাধিকবার ফোন করেও তার সাথে কথা বলা যায় নি।

এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল বলেন এসব কাজে আমাদের কোন হস্তক্ষেপ নেই। আমরা শুধু অনলাইনে এক মিনিটেই পাঠিয়ে দেই পরে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয় ঢাকা থেকে।এবিষয়ে কিছু জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মোক্তাদির হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি ফোনটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।