সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে নৌকার ভরাডুবির কারণ কি?

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২১, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জ জেলার দু’টি উপজেলার ১৭টি ইউপির মধ্যে দু’টিতেই জয় পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। বাকি ১৫টি ইউনিয়নই এবার হাতছাড়া হয়েছে। হবিগঞ্জের দু’টি উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ১৩টিতে জয়েরমুখ দেখেনি নৌকা প্রতীক। একই অবস্থা মৌলভীবাজারের দু’টি উপজেলায়ও। এখানকার ২৩টি ইউনয়নের মধ্যে ১২টিতে জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা।

সুনামগঞ্জর সদর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। এ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ২টিতে জাপা, ৩টিতে বিএনপি, ২টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ১টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও ১টিতে জমিয়ত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

ভোট গণনা শেষে রোববার রাত সাড়ে ১০টায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেনে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী তৃতীয়বারের মতো আব্দুল অদুদ (আনারস) ২৯৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আব্দুল মান্নান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ২২০৭ ভোট।

কুরবাননগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল বরকত (মোটরসাইকেল) ৩০৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. শামস উদ্দিন (নৌকা) পেয়েছেন ২৯২১ ভোট।

জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী রশিদ আহমদ (লাঙ্গল) ৫৮৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল কাদির (আনারস) পেয়েছেন ৪৬৮১ ভোট।

সুরমা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমির হোসেন রেজা (চশমা) ৫১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মো. সিরাজুল ইসলাম (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৪৭১০ ভোট।

গৌরারং ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শওকত আলী (লাঙ্গল) ৬৯৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদুল ইসলাম (অটোরিকশা) পেয়েছেন ৪৮৬৭ ভোট।

রঙ্গারচর ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী দ্বিতীয়বারের মতো আব্দুল হাই (মোটরসাইকেল) ৪৬৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৪২০২ ভোট।

মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী নূরুল হক (মোটরসাইকেল) ৩৪২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম (ঘোড়া) পেয়েছেন ৩১৯৯ ভোট।

মোহনপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইনুল হক (মোটরসাইকেল) ৩১৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সীতেষ তালুকদার মঞ্জু (নৌকা) পেয়েছেন ২৯২১।

কাঠইর ইউনিয়নে জমিয়তুল উলামায়ে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী শামসুল ইসলাম (খেজুর গাছ) ১৭৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জাতীয় পার্টির মো. ফারুক মিয়া (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১৭৩৯ ভোট।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২টি, বিএনপি সমর্থিত ৩টি এবং ৩টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জয়কলস ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল বাছিত সুজন(ঘোড়া), পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি) মাসুক মিয়া(আনারস) , পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী জগলুল হায়দার(নৌকা) , পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী(বিএনপি) লুৎফর রহমান জায়গীরদার খোকন(চশমা), পাথারিয়া ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম(ঘোড়া) , শিমুলবাক ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী শাহিনুর রহমান শাহিন(আনারস) ও দরগাপাশা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী(বিএনপি) ছুফি মিয়া (চশমা) প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।