দিরাই-শাল্লাকে মডেল উপজেলায় রুপ দেওয়া হবে. ড জয়া

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১১:১৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: গেল প্রায় ২ বছর ধরে করোনায় থমকে আছে পুরো বিশ্ব। অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিলো মানুষের যাপিত বাস্তবতা। বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর এমন বিরুপ পরিস্থিতিতেও থেমে থাকেনি ভাটির দেশ সুনামগঞ্জ -২ (দিরাই -শাল্লা) এর উন্নয়নযজ্ঞ। বিখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মিণী দিরাই শাল্লার বর্তমান সাংসদ ড. জয়া সেন গুপ্তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর দক্ষ নেতৃত্বে সমানতালেই এগিয়ে যাচ্ছে ভাটির দেশের উন্নয়ন।

২০১৯ থেকে এখন পর্যন্ত উন্নয়ন হওয়া বা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন কাজগুলোর দিকে খানিকটা থাকালেই বোঝা যায় দিনবদলের রুপকার প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ড. জয়া সেনের সাফল্যের গল্পগুলো কতটা সমৃদ্ধ।

গেল ৪ বছরেই দিরাই শাল্লায় কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভূক্তকরণ হয়েছে ১ টা কলেজ, ২ টা হাই স্কুল, ১টা জুনিয়র স্কুল এবং ১টা দাখিল মাদ্রাসা। একই সাথে ২টা স্কুল এবং ২টি মাদ্রাসা কে ও জাতীয়করণ করা হয়েছে। সেই সাথে ১০ টাই হাই স্কুল ও ৪ টা মাদ্রাসায় ৪ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন করা হয়েছে। ৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উর্ধমূখী সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সাথে ২ টি কলেজ, ২ টি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও 2 টি হাইস্কুলে ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়েছে।

৩৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের কাজ চলমান, যেগুলো শিগগিরই সমাপ্ত হবে। একই সাথে মেরামত করা হচ্ছে ২৬ টা ভবনকে। সেই সাথে সীমানাপ্রাচীর, নতুন গেইট নির্মাণও করা হচ্ছে। ২৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক করা হয়েছে, এবং আরও ১৮ টি শেষ হওয়ার পথে।

জনস্বাস্থ্যের দিকে বরাবরই সচেতন ড.জয়া সেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার দরুন ২ উপজেলায় ৪৪৫ টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও কমিউনিটি ভিত্তিক পানি সরবরাহ ইউনিট ৯ টি। ৮৮ টি স্যানিটেশন ও হাউজিং ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প।

ভাটি এলাকার ছেলেমেয়েরা যাতে নির্বিগ্নে খেলাধুলা করতে পারে এজন্য শেখ রাসেল নামে ২ টি অত্যাধুনিক মিনি স্টেডিয়াম তৈরির কাজও প্রক্রিয়াধিন আছে।

দিরাই শাল্লার এই সংসদ সদস্যের উদ্যোগে ভাটি এলাকায় ১টি মৎস্য অবতরণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজতকরণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শীগ্রই শুরু হবে। ২ টি কারিগরি যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাজও প্রক্রিয়াধীন।

এই সময়ে দিরাই -মদনপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক মেরামত করা হয়েছে, শাল্লা জলসুখা আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজও দ্রুত গতিতে চলছে। এছাড়াও দিরাই শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে শিগগিরই অনুমোদন হওয়ার অপেক্ষায়।

১ টি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরেকটি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতের সাব স্টেশন নির্মাণ করে উভয় উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয়েছে।উভয় উপজেলায় ২০ টি সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়াও উপজেলা দুটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করে ভাটির এই জনপদটিকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলছে।

যেকারণে জয়া সেনের দক্ষ নেতৃত্বের প্রশংসায় ভাটি এলাকার অবহেলিত জনপদের মানুষগুলোর মুখে মুখে।

এবিষয়ে দিরাইয়ের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক প্রশান্ত সাগর দাস বলেন , আমাদের সাংসদ খুবই সচেতন একজন মানুষ। যেকারণে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর সময়োপুযোগী বিভিন্ন উদ্যোগে পাল্টে যাচ্ছে দিরাই শাল্লার চেহারা। এসময় তিনি উন্নয়নের এই জোয়ার ভবিষ্যতে ও চালু থাকবে বলে আশা করেন।

দিরাই শাল্লার এই অভূতপূর্ব উন্নয়ন প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে, সাংসদ ড. জয়া সেনগুপ্তা বলেন, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্বপ্ন একটাই ছিল, উন্নত শিক্ষা,স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নত করে ভাটির মানুষ সবসময়ই এগিয়ে থাকবে। আর সেই লক্ষেই তিনি কাজ করে গেছেন। ড. জয়া বলেন, নির্বাচিত হবার পর থেকেই সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত গতিতে কাজ করে সমাপ্ত করা চেষ্টা করি। রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য যা যা করা দরকার সবই করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে ড. জয়া বলেন, দিরাই শাল্লা পিছিয়ে থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর ভাটি এলাকার প্রতি বরাবরই যত্নশীল উল্লেখ করে, জয়া বলেন,  সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে দিরাই – শাল্লা কে মডেল উপজেলায় রুপ দেওয়া হবে।