জগন্নাথপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় যারা

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২২, ৭:৩০ অপরাহ্ণ


জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন একাধিক নেতা । আগামী ২৭ জুলাই সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই সম্ভাব্য প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা । নির্বাচনে প্রার্থী হতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ দলীয় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ নেবে না তাই দলের নেতাদের আগ্রহ তেমন নেই। তবে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান দল নির্বাচনে না গেলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন এমন আলোচনা রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রমতে, নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী আট জন নেতা। এরা হলেন জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আকমল হোসেন, সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুন রাশীদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মিন্টু রঞ্জন ধর, যুক্ত্যরাজ্য আওয়ামীগ নেতা আব্বাস চৌধুরী লিটন, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য, সিলেট মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সাবিনা আনোয়ার হালিমা।
আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন স্থানীয় সাংসদ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সুদৃষ্টিতে আছেন। এছাড়া মন্ত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রিজুও মনোনয়ন দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে। সভাপতি আকমল হোসেন গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হওয়ায় এবার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে।
অপরদিকে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক থাকলেও গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন। তবে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তার গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী, পেশার মানুষের কাছে। উপজেলাজুড়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা থাকায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন এমন আলোচনা রয়েছে সচেতন মহলে।
এবার দলের মনোনয়ন যুদ্ধে আরেক আলোচিত নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি হারুন রশীদ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুস সামাদ আজাদ ডনের ঘনিষ্ঠজন এই নেতা নৌকার মাঝি হবেন এমন প্রত্যাশা করছেন তার সমর্থক নেতা কর্মীরা। তবে তিনিও মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন এমনটা জানিয়েছেন দলের কয়েকজন নেতা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মিন্টু রঞ্জন ধর মূলত একজন ব্যবসায়ী। ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়ায় দলীয় মনোনয়ন পেতে তিনিও জোড় লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন । মহিলা নেত্রী সাবিনা আনোয়ার দলের মনোনয়ন নিয়ে চমক সৃষ্টি করবেন এমন আলোচনা শুরু হয়েছে দলীয় পর্যায়ে।সাবেকদুই ভারের উপজেলা চেয়ারম্যান আবু খালেদ চৌধুরীর মেয়ের জামাই, আলহাজ্ব আব্বাস চৌধুরী লিটন তিনি একজন প্রবাসী, তিনি কয়েক বছর ধরে মাঠে কাজ করে আসছেন । তিনিও দলীয় নৌকা পাওয়ার জন্য জোড় লবিং চালিয়ে যাচ্চেন। এদিকে আরেক যুক্ত্যরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা হরমুজ আলী দলীয় নৌকা পাওয়ার জন্য লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একজন নেতা জানান, দলীয় মনোনয়নের জন্য তিনজন প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হবে। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষেই দলীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয় থাকবেন।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই হবেন দলের প্রার্থী।

বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আতাউর রহমান এবার দলীয় মনোনয়ন না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সৈয়দ তালহা আলম জমিয়তের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন এটা প্রায় নিশ্চিত।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনু্যায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ২৮ জুন, বাছাই ৩০ জুন, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ৭ জুলাই ও ভোটগ্রহণ ২৭ জুলাই। ভোট হবে ইভিএমে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৫ মার্চ এই উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেনকে পরাজিত করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আতাউর রহমান নির্বাচিত হন।