বিএনপির সঙ্গে শরিক দলগুলোর দূরত্ব বাড়ছে?

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৩, ৮:৪২ অপরাহ্ণ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির ময়দানে বেশ তৎপর বিএনপি। নিয়মিত পালন করছে কর্মসূচি। রমজানেও চালাচ্ছে কূটনৈতিক তৎপরতা। শরিক বা সমমনা দলগুলোও এসব কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। তবে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিএনপি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর কাছ থেকে। দল ও দলের বাইরে কথা উঠছে দূরত্ব নিয়ে। শরিকদের সঙ্গে বোঝাপড়া ঠিক রাখতে তাই জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি।

সূত্র জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্মসূচি ঘোষণার আগে শরিকদের সঙ্গে বিএনপি আলোচনা করে না। পরবর্তীসময়ে কী কর্মসূচি ও কবে পালন করা হবে, তা বিএনপির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শরিকদের জানানো হয়। আন্দোলন সমন্বয় করতে লিয়াজোঁ কমিটি থাকলেও সেখানে আলোচনা করে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিএনপির স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপি ঘোষিত ১ এপ্রিল দেশের সব মহানগর ও জেলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। আরেক শরিক ১২ দলীয় জোট কর্মসূচি আংশিক পালন করে। এছাড়া রমজানে গণতন্ত্র মঞ্চ ও জাতীয়তাবাদী জোটকে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, শরিকদের সঙ্গে মাঝে মধ্যে বৈঠক করলে ভুল বোঝাবুঝি থাকে না, দূরত্ব কমে যায়।

এ বিষয়ে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, কিছু কর্মসূচি আমাদের নিজস্ব, কিছু যুগপৎ। যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি আলোচনা করেই ঠিক করা হয়। কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা নেই।

আন্দোলনে বেঁকে বসা শরিকদের সঙ্গে বিএনপি যে বোঝাপড়ায় ব্যস্ত তা দলটির সাম্প্রতিক কর্মতৎপরতায় স্পষ্ট। গত ২ এপ্রিল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির নেতারা গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। ৭ এপ্রিল ১২ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটি ও বিএনপি নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ৮ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি নেতারা। এসব বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জোটগুলোর দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন বৈঠকে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানান, ঈদ পরবর্তী কর্মসূচি ও আন্দোলনের নানা কৌশল নিয়ে এসব বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নিজেদের মধ্যে মান-অভিমান নিয়েও পরস্পরের আলোচনায় উঠে আসে। এছাড়া অবশিষ্ট দল ও সংগঠনের সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে বৈঠক হবে বলে জানা যায়।

সম্প্রতি বৈঠকে আগামীর কর্মসূচি, কৌশল নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জাপার (জাফর) নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার জাগো নিউজকে বলেন, কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি একসঙ্গে চলতে গেলেও অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি হয়। সেগুলো যেন না হয় সে ব্যাপারেও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও গণ-অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে থাকা দলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সমন্বয়ের চেষ্টা করছে বিএনপি।

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান কে বলেন, বর্তমান সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি আর ভোট চুরির বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। এসব বৈঠকে অনেক বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে বৈঠক করলে দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয় না।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ, দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে রয়েছে সাত দলের জোট গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট ও ১১ দলের জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট। এর বাইরে এলডিপি ও গণফোরাম (মন্টু) নিজেদের মতো করে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করছে। গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনকারীরা। গত তিন মাসে গণমিছিল, গণঅবস্থান, পদযাত্রা, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের মতো কর্মসূচি দিয়েছে তারা।