সংসদ নির্বাচন,দিরাই-শাল্লায় ভোটের সমীকরণে কে এগিয়ে ?

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীকে ঘিরেই বিভক্ত হয়ে গেছে দল। দুই জনেই প্রভাবশালী পরিবারের প্রার্থী হওয়ায় সকলের চোখ এই আসনে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হাওরাঞ্চল জুড়ে পরিচিতি রয়েছে দুইজনেরই। একজন প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের স্ত্রী ড. জয়া সেন গুপ্তা। আরেকজন আইজিপি’র ভাই চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল আমিন চৌধুরী)। দিরাই-শাল্লায় গেল প্রায় ১৫ বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসা আওয়ামী লীগের দলীয় অফিসকে সোমবার থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সাংসদ জয়া’র নির্বাচনী কার্যালয় ঘোষণা করা হয়েছে। আল-আমিন আলাদা নির্বাচনী কার্যালয় করেছেন।

সাতবার নির্বাচন করায় প্রয়াত পার্লামেন্টারিয়ান-রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসন ভোটের রাজনীতিতে ‘সুরঞ্জিতের আসন’ হিসেবে পরিচিত। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা গেলে তাঁর স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তা ঐ বছরের ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের দ্বিতীয়বার মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ড. জয়া সেনগুপ্তা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রাথী আল-আমিন চৌধুরী। অন্যদিকে, দুইবারের সংসদ সদস্য হওয়া ড. জয়া সেনগুপ্তা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

আল—আমিন চৌধুরী প্রয়াত সুরঞ্জিত ও তাঁর স্ত্রী ড. জয়া সেন’র ঘনিষ্টজন হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন। শাল্লা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুইবার চেয়ারম্যানও হয়েছেন। আল আমিন চৌধুরী’র বাবা প্রয়াত আব্দুল মান্নান চৌধুরী ছিলেন শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি।

এই আসনে এই দুই প্রার্থী ছাড়া গণতন্ত্রী পার্টির মিহির রঞ্জন দাস’র মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তবে তিনি এখনো নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হন নি। ভোটে লড়বেন কী—না এটিও আগামী বুধবার সিদ্ধান্ত নেবে তাঁর দল বলে জানিয়েছেন তিনি। মিহির নির্বাচনে না থাকলে এরা দু’জন ছাড়া আর কোন প্রার্থীই থাকবে না এই আসনে। আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর—ই ভোটের লড়াই হবে।

নিজেদের মধ্যকার এই লড়াইয়ে দলের কর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অসুস্থ্য হওয়ায় ভোটের মাঠে নেই তিনি।

এই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলীয় প্রার্থী আল—আমিন চৌধুরী। সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস ছাত্তার কট্টর সমর্থক জয়া সেন’এর। দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় ও দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ^জিত রায় রয়েছেন জয়া সেন’এর পক্ষে। সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. সোহেল আহমদ, যুবলীগ সভাপতি রঞ্জন রায় ও দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশারফ মিয়া আছেন নৌকার পক্ষে।

শাল্লা উপজেলার বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি অ্যাড. অবনী মোহন দাস কিছুদিন আগেও ছিলেন জয়া’র কট্টর সমালোচক। গত কয়েকদিন হয় তিনিই শাল্লা উপজেলায় জয়া সেন’র নির্বাচনী দায়িত্ব নিয়েছেন।

অবনী মোহন দাস জানালেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসেই রোববার থেকে জয়া’র নির্বাচনী কার্যক্রম চালু হয়েছে। রোববার জয়া সেন’এর পক্ষে চারটি বাজারে উঠোন সভা করা হয়েছে। এভাবে আগামী তিন দিনে ১৬ টি বাজারে উঠোন বৈঠক করার ইচ্ছ আছে তাঁদের। বললেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ দায়িত্বশীলরাই জয়া’র পক্ষে নেমেছেন। তবে জয়া সেন’র গেল কয়েক বছরের ঘনিষ্ঠরা তাঁকে ছেড়ে নৌকায় উঠেছে,‘এরা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের পূর্ণাহুতি দিতে চায়’।

শাল্লা উপজেলা সদরের ইউনিয়ন পরিষদ বাহাড়া’র চেয়ারম্যান বিশ^জিত চৌধুরী নান্টু। কিছুদিন আগেও আল—আমিন চৌধুরী’র কঠোর সমালোচক ছিলেন এই জনপ্রতিনিধি। এখন তিনি আল—আমিন চৌধুরী’র পক্ষের সক্রিয় কর্মী।
নান্টু বললেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসটি জয়া সেন গুপ্তা’র স্বামী সুরঞ্জিত সেন’র কেনা অফিস। এজন্য ওখানকার অফিসের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড খুলে জয়া সেন’র নির্বাচনী অফিস করেছে তারা (জয়া সেন’এর সমর্থকরা)। আমরা আলাদা অফিস করেছি। দলীয় প্রার্থী আল—আমিন চৌধুরী’র পক্ষেই দলের কর্মী বেশি দাবি করে নান্টু বললেন, কর্মীরা অবশ্য দুই পক্ষেই আছে।

আল—আমিন চৌধুরী বললেন, নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলার মধ্যে দিরাইয়ের অফিস ছিল সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের বাসভবনে। ওখানে জয়া সেন আছেন। তিনি নির্বাচনী কার্যালয় করেছেন। শাল্লা অফিসের জমি সংগঠনের প্রয়াত উপজেলা সভাপতি মহিম চন্দ্র দাস এবং সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের ম্যানেজার সুজিত চন্দ্র চক্রবর্তীর নামে রেজিস্ট্রি করেছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। ওই অফিসে জয়া সেন গুপ্তার নির্বাচনী কার্যালয় করা হয়েছে। আমি আলাদা স্থানে অফিস করেছি। তিনি জানালেন, পুরো নির্বাচনী এলাকায় কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি করার কাজ চলছে নৌকার। আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা কর্মীই নৌকার পক্ষে আছে।জয়া সেন গুপ্তাও আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা কর্মীই তাঁর পক্ষে দাবি করে আল—আমিন চৌধুরী’র সঙ্গে হাতে গোনা কয়েকজন আছেন দাবী করলেন। তিনি বললেন, আওয়ামী লীগ সকলেই, একযুগেরও বেশি সময় ধরে দলের অফিস যেখানে আছে, সেখাই থেকেই ভোটের কাজ করছে তাঁর পক্ষের নেতা কর্মীরা।